কারিগরি বোর্ড চেয়ারম্যানের ভাউচার জালিয়াতি



গতবছর ১০ই মার্চ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছেন ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। যোগ দিয়েই তিনি ভাউচার জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নেন ২৫ লাখ ১৪ হাজার ৪০০টাকা। এ টাকা তার প্রাপ্য ছিল না। তার আগে যারা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের পাওয়ার কথা। বলতে গেলে অন্যের টাকা তিনি ভাউচার জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নিয়েছেন। আর এটা করতে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সালের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত সময়ের ভাউচার জালিয়াতি করা হয়। ইতিমধ্যে এ জালিয়াতির কিছু অংশের প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত সপ্তাহে মোস্তাফিজুর রহমানকে সতর্ক নোটিশ পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যেখানে দায়িত্ব নেয়ার আগের সময়ের চেয়ারম্যানের পারিশ্রমিকের ৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ভাউচার জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষা সচিবের কাছে আরো ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৪০০ টাকা ভাউচার জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। যেখানে কোন কোন খাতে, কীভাবে, কত তারিখ এ টাকা তুলে নেয়া হয়েছে তার বিবরণ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারেও তদন্ত চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে। যেসব খাতের ভাউচার জালিয়াতি করা হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে সনদপত্র, নম্বরপত্রের নাম সংশোধন, ডুপ্লিকেট রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র সংক্রান্ত। এ ছাড়া রয়েছে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ, নম্বরপত্র লিখন। সেখানে দেখা যায় নম্বর পত্রের বকেয়া সম্মানী বিল বাবদ পহেলা জানুয়ারি ২০০৯ সাল থেকে ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়েছেন ৯ লাখ ৪০ হাজার ৩০০টাকা।

এ টাকা উঠানো হয়েছে ২৫শে আগস্ট ২০১৫ সালে। একই সময়ের নম্বর পত্রের বকেয়া সম্মানী বিল (আংশিক) নিয়েছেন ৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে ৩০শে আগস্ট ২০১৫ সালে। বিল নং-৪৬৩-এর মাধ্যমে নম্বর পত্রের বাকি অংশ ২ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকা তুলে নিয়েছেন। এ ছাড়া সনদ লিখন বাবদ বিল নং-১৫৮৫, তারিখ ১৮ই মে ২০১৫ সালে নিয়েছেন ৪৫ হাজার টাকা। এখানে ২০১৪ সালের ২০শে ডিসেম্বর থেকে ৩১শে মার্চ ২০১৫ সাল সময়ের ভাউচার জালিয়াতি করা হয়। নম্বরপত্র লিখন বাবদ ২০শে অক্টোবর ২০১৪ থেকে ৩১শে মার্চ ২০১৫ পর্যন্ত নিয়েছেন ৪০ হাজার টাকা। এর বিল নং-১৪২৩। তারিখ ১৬ই এপ্রিল ২০১৫। উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ বাবদ নিয়েছেন ৩০ হাজার টাকা। ১লা জুলাই ২০১৪ থেকে ৩১শে জানুয়ারি ২০১৫ পর্যন্ত সময়ের পারিশ্রমিক বাবদ এ টাকা নেয়া হয়। যার বিল নং-১৩৬৪। তারিখ ২রা এপ্রিল ২০১৫। পহেলা মে ২০১৪ থেকে ৩০শে এপ্রিল ২০১৫ পর্যন্ত সনদপত্র, নম্বরপত্রের নাম সংশোধন ও ডুপ্লিকেট রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও ও প্রবেশ পত্র সংক্রান্ত কাজের পারিশ্রমিক বাবদ নেন ৩১ হাজার টাকা। যার বিল নং-১৬১৪। তারিখ ৩১শে এপ্রিল ২০১৫। ভাউচার জালিয়াতির এ বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে। পরে গত সপ্তাহে তাকে সতর্ক নোটিশ দেয়া হয়। দায়িত্ব নেয়ার আগের সময়ের এ টাকা ভাউচার জালিয়াতির মাধ্যমে নেয়া হয়েছে বলে সতর্ক নোটিশে বলা হয়।



সূত্রঃ mzamin.com

Facebook Comments