এই মডেল ব্যবহার করলে কাওরান বাজারের সিগনাল মুক্ত করা যায়

যানজট আমাদের জন্য একটি অভিশাপ কিন্তু আমরা সহজেই এই অভিশাপ থেকে রক্ষা পেতে পারি। একটু পরিকল্পনা মাফিক রাস্তাগুলো সাজালে আমরা যানজট থেকে বাঁচতে পারি। তখন দেখা যাবে একসাথে অনেক গাড়ী চললেও কোন যানজট সৃষ্টি হবে না। কিভাবে তা সহজেই প্রমাণ করে দিচ্ছি। চিত্রে এখন আমরা দেখছি যানজট যুক্ত কাওরান বাজার সিগন্যালঃ

10_trafficjam_karwanbazar_091114_0004-min

এই মডেল ব্যবহার করলে কাওরান বাজারের সিগনাল মুক্ত করা যায়. যানজট আমাদের জন্য একটি অভিশাপ কিন্তু আমরা সহজেই এই অভিশাপ থেকে রক্ষা পেতে পারি। একটু পরিকল্পনা মাফিক রাস্তাগুলো সাজালে আমরা যানজট থেকে বাঁচতে পারি। তখন দেখা যাবে একসাথে অনেক গাড়ী চললেও কোন যানজট সৃষ্টি হবে না। কিভাবে তা সহজেই প্রমাণ করে দিচ্ছি …

15134546_1306222319398427_8132789278275179697_n


প্রথমে বলি পাবলিক বাসের কথা। যদি একটি পাবলিক বাস একাধিকবার বা বর্তমানের চেয়ে বেশী বার যাতায়াত করতে পারে, তাহলে গাড়ীর সংখ্যা কমে আসবে। যেমন- উদাহরণ স্বরুপ বলা যায় একটি বাস মিরপুর ১২ নম্বর থেকে ছেড়ে যাত্রাবাড়ী আসতে সময় ব্যয় করে ২-২.৫ ঘণ্টা। অথচ মিরপুর থেকে তার যাত্রাবাড়ী যাওয়ার সময় ব্যয় হওয়ার কথা ৪৫ মিনিট বা তার কম। তাহলে তার সময় নষ্ট হচ্ছে অতিরিক্ত দেড় ঘন্টা বা তার বেশী। তাহলে দেখা যাচ্ছে ঐ গাড়ীটি দৈনিক তিনবার যাওয়ার কথা অথচ সে যাচ্ছে একবার। তার মানে বাকী অতিরিক্ত দুই বারের জন্য নতুন দুইটি গাড়ী রাস্তায় নামছে এবং জ্যাম সৃষ্টি করছে।

(২) বেবিট্যাক্সি জন্য আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ভোগান্তিতে পড়ি। আমরা কোন একটি গন্তব্যে যেতে চাইলে রাস্তায় যানজটের জন্য বেবিট্যাক্সিতে উঠি। এই জন্য নতুন নতুন বেবিট্যাক্সির সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু যদি যানজট না থাকতো তাহলে আমরা অতিরিক্ত টাকা নষ্ট না করে বেবিট্যাক্সিতে উঠতাম না।

এবার আসা যাক প্রাইভেটকার বা প্রাইভেট সেক্টর:

প্রাইভেটকার বা প্রাইভেট সেক্টর এর অনেকগুলো বিভাজন রয়েছে। যেমন- ব্যক্তি মালিকানা কার বা অফিস কর্তৃক ব্যক্তিগত গাড়ী। রেন্ট-এ-কারদের ভাড়া গাড়ী, কোম্পানীর পণ্য ডেলিভারী ভ্যান, বিভিন্ন প্রকার এ্যাম্বুলেন্স ইত্যাদি।

প্রথমেই বলা যাক, ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ী সম্পর্কে। আমরা প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় আলাপ করে থাকি বড়লোকদের জন্য প্রাইভেট কার বাড়ছে এবং জ্যামজট সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি কেন বড় লোকেরা একাধিক গাড়ী ব্যবহার করে? একজন মানুষ যেমন একসাথে দুইটি গাড়ী চালাতে পারে না, ঠিক তেমনি কেউ কিন্তু চায়না তার পকেটের টাকা বিনা কাজে ব্যয় হোক। উদাহরণ স্বরুপ ধরা যাক। আপনি একজন বড় লোক। আপনার বাসায় সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে ৬ জন। আপনার পরিবারের সবাইকেই বাহিরে কাজের জন্য যেতে হয়। প্রত্যেকের কাজের গন্তব্য স্থান আলাদা। আপনার একটি কিংবা দুইটি গাড়ী ব্যবহার করেও দেখা যাচ্ছে সমস্যা সমাধান করতে পারছেন না।

আপনি দেখছেন যে, আপনি ড্রপ করিলে আপনার অন্য সদস্যদের ড্রপ করতে দেরী হয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে আপনার পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য গাড়ী কিনতে হচ্ছে। অথবা দেখছেন রাস্তায় অনেক যানজট। আপনার পরিবারের সদস্যদের কাছ রাস্তার কষ্ট থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য গাড়ী কিনে দিচ্ছেন । যদি যানজট না থাকতো তাহলে কিন্তু আপনি এই অপ্রয়োজনীয় খরচটুকু করতেন না। তখন আর বড়লোকদের বেশী গাড়ী থাকলেও তা একত্রে রাস্তায় বের করার প্রয়োজন পড়তো না।

এবার অফিস কর্তৃক প্রাইভেটকারের কথা বলা যায়।আমাদের দেশে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণ প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান আছে যাদের কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ী রয়েছে চলাচলের জন্য। একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক তার কর্মকর্তাদের গাড়ী সুবিধা দিয়ে থাকে কিন্তু শুধু দেখা যায় শুধুমাত্র জ্যামের কারনে প্রত্যেকের জন্য পৃথক গাড়ীর ব্যবস্থা করতে হয়। অথচ যানজট না থাকলে এই সেক্টরের গাড়ীর সংখ্যা কমে যেত।

রেন্ট-এ কারদের ভাড়াকৃত গাড়ী:

বাংলাদেশে বর্তমানে রেন্ট-এ কারের চাহিদা অনেক বেশী এবং প্রচুর পরিমাণে এই ধরনের গাড়ী রয়েছে কিন্তু এই রেন্ট-এ কারের চাহিদা সাধারণ বাসই পুরণ করিতে পারে। আমি মনে করি খুবই সহজ। কারণ আপনি বা আপনার পরিবার কোন কাজের উদ্দেশ্যে কোথাও যাবেন বা যেতে চাবেন। তখন প্রথমেই আপনার মাথায় কাজ করবে গাড়ী যানজটের কথা। এই জন্য আপনি অতিরিক্ত টাকা খরচ করে রেন্ট-এ কার ভাড়া করবেন।যদি যানজট না থাকতো তাহলে আপনি সাধারণ বাসে চলাচল করতেন।



কোম্পানীর পণ্য ডেলিভারী ভ্যান:

রাস্তায় অন্যান্য গাড়ীর মতো বিভিন্ন কোম্পানীর পণ্য ডেলিভারীর জন্য একাধিক গাড়ী রয়েছে। একটি কোম্পানী তার পণ্য বিক্রেতার নিকট সরবরাহ করার জন্য গাড়ীর ব্যবস্থা করে থাকে। একটি গাড়ী ঐ স্থানে সময়মত পৌছাতে পারে না। এজন্যে তাকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত গাড়ীর ব্যবস্থা করতে হয়। ফলে রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশ একটি গরীব ও উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশের অনুন্নতির মূলে অনেক সমস্যা রয়েছে। সব সমস্যার মধ্যে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে যানজট। শুধুমাত্র যানজট নিরসন করা গেলে দেশের ৫০ ভাগ উন্নয়ন হয়ে যাবে। কারণ যানজটের কারণে দেশের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। যাই হোক- অনেক গবেষণা করে আমি একটি যানজটমুক্ত কনসেপ্ট তৈরী করেছি। যার মাধ্যমে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে যানযট নিরসন করা সম্ভব এবং এই জন্য সরকারের বা দেশের তেমন কোন অর্থ খরচ হবে না বরং ঢাকা শহর একটি ডিজিটাল শহর হয়ে যাবে।

Facebook Comments